রশ্মিকা মান্দানার 'ডিপফেক' ভিডিও ভাইরাল! AI-এর কেরামতিতে কতটা ঝুঁকির মুখে মহিলারা?

Rashmika Mandanna Deepfake Video : ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায় কালো একটি পোশাক পরে লিফটে ঢুকছেন রশ্মিকা। পোশাক এবং ভিডিওর উদ্দেশ্য অশ্লীল।

কয়েক দশক আগে, মানে যখন নানা ভিডিও এডিটিং, ফটো এডিটিং ব্যবস্থা জনপ্রিয় হচ্ছে তখন একটি বড় সমস্যা, অপরাধ প্রায়ই ঘটত। হামেশাই সেই খবর নিয়ে তোলপাড় হতো খবরের কাগজ। মহিলারাই ছিলেন এই অপরাধের মূল শিকার। ফটো এডিটিং সফটওয়্যারের মাধ্যমে একজন মহিলার মুখ কেটে অন্য কোনও চরিত্রের উপর বসিয়ে দেওয়া, ভিডিওতে বসিয়ে দেওয়ার ঘটনা হামেশাই ঘটেছে। প্রেমের সম্পর্ক নষ্ট হলে, ব্ল্যাকমেল করার হাতিয়ার হয়ে ওঠে এই প্রযুক্তি। এতকাল পরে যেন ফের সেই ঘটনাই মনে করিয়ে দিচ্ছে অভিনেত্রী রশ্মিকা মান্দানার সঙ্গে ঘটা এক ঘটনা। সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে রশ্মিকা মান্দানার একটি ভিডিও। প্রযুক্তির ভাষায়, এই ভিডিওটি আসলে 'ডিপফেক'। ভিডিওটি এআই-এর সাহায্যে তৈরি করা। রশ্মিকার মুখ বসানো হয়েছে অন্য এক মহিলার দেহে।

ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায় কালো একটি পোশাক পরে লিফটে ঢুকছেন রশ্মিকা। পোশাকের ব্যবহার এবং ভিডিওর উদ্দেশ্য 'অশ্লীল'। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, ওই মহিলা রশ্মিকা নন, রশ্মিকাও ওই মহিলা নন। অন্য এক মহিলার দেহে রশ্মিকার মুখটি অত্যন্ত দক্ষভাবে বসানো হয়েছে। একজন বিখ্যাত অভিনেত্রীর সঙ্গেই যদি এমন ঘটনা ঘটে, কতটা নিরাপদ রয়েছেন অন্য মহিলারা? রশ্মিকা মান্দানার সঙ্গে 'গুডবাই' সিনেমাতে কাজ করেছেন অমিতাভ বচ্চন। রশ্মিকার সঙ্গে ঘটা এই ঘটনার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন অমিতাভ।

 

ভিডিওটি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার পর একজন সাংবাদিক, অভিষেক কুমার নিজে এগিয়ে এসে ভিডিওটি ভুয়ো বলে নিশ্চিত করেন। “ভারতে ডিপফেক সমস্যার মোকাবিলার জন্য আইনি ব্যবস্থা এবং নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর জরুরি প্রয়োজন। আপনি হয়তো ইনস্টাগ্রামে অভিনেত্রী রশ্মিকা মান্দানার এই ভাইরাল ভিডিওটি দেখেছেন। তবে এটি জারা প্যাটেলের একটি ডিপফেক ভিডিও,” তিনি X এ লেখেন। তিনি আরও লিখছেন, ভিডিওটি মন দিয়ে দেখলেই ঠিক ০:০১ সেকেন্ডে দেখা যাবে লিফটে যখন ঢুকছিলেন তখনই হঠাৎ তাঁর মুখটি অন্য মেয়ের থেকে বদলে রশ্মিকার মুখ হয়ে যায়।

আরও পড়ুন- ৬৮-তেও অনন্ত যৌবন! ছাই থেকে যেভাবে বারবার জেগে উঠেছেন রেখা…

রশ্মিকা এই ঘটনায় অত্যন্ত হতচকিত, আহতও! অভিনেত্রী সোশ্যাল মিডিয়াতে লিখেছেন, "সত্যিই কষ্ট হচ্ছে যে আমার ডিপফেক ভিডিওটি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে কথা বলতে হচ্ছে। এইরকম ঘটনা অত্যন্ত ভয়ঙ্কর। শুধু আমার জন্য নয়, আমাদের প্রত্যেকের জন্যই যারা আজ প্রযুক্তির অপব্যবহারের কারণে এত ক্ষতির মুখে পড়ছি। আজ, একজন মহিলা এবং একজন অভিনেতা হিসাবে আমি আমার পরিবার, বন্ধুবান্ধব এবং শুভাকাঙ্খীদের জন্য কৃতজ্ঞ যারা আমার সুরক্ষার কথা মাথায় রাখছেন এবং আমাকে সমর্থন করছেন। কিন্তু আমি যখন স্কুল বা কলেজে পড়তাম তখন যদি আমার সঙ্গে এমনটা ঘটত, আমি সত্যিই কল্পনা করতে পারছি না যে আমি কীভাবে তা সামলাতাম।"

 

জারা প্যাটেল কি নিজে এই ডিপফেক ভিডিও তৈরি করেছেন? কোনও প্রমাণ নেই। কে তাহলে এই ভুয়ো ভিডিও তৈরি করেছেন, উদ্দেশ্যই বা কী তা এখনও জানা যায়নি। সাম্প্রতিক কালে এআইয়ের ভুয়ো ভিডিওর শিকার হয়েছেন অনেক তারকাই৷

ডিপফেক ভিডিও আসলে কী? ডিপফেক হল এক ধরনের 'সিন্থেটিক মিডিয়া'। এখানে কোনও ইমেজ বা ভিডিওতে থাকা কোনও ব্যক্তিকে এআই ব্যবহার করে অন্য কারও সঙ্গে বদলে দেওয়া যায়। বিষয়টি আগেও হতো কিন্তু ডিপফেক ভিডিওগুলি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে এখন আরও নিখুঁত তৈরি করা যাচ্ছে। ডিপফেক ভিডিওতে প্রায়ই মুখের অস্বাভাবিক অভিব্যক্তি বা নড়াচড়া দেখা যায়। যেমন, খুব ঘন ঘন চোখের পলক ফেলা, বেশিই নড়াচড়া করা। খুব ভালো করে খতিয়ে দেখলেই একটি ভিডিও আসল নাকি নকল তা বোঝা যাবে। ডিপফেক ভিডিওগুলিতে প্রায়ই চোখ ঝাপসা থাকে, বা ফোকাসহীন থাকে। ব্যক্তির মাথার নড়াচড়ার সঙ্গে এই চোখ মেলে না।

 

More Articles